কাঠ পুতুল

কিছুদিন আগে অবধিও পায়ের তলায় সরষে ছিল। কিন্তু সেই যে গত বছরের মার্চে ঘরে ফেরার গান গেয়ে ঘরে ফিরেছিলেন, তারপর আর বেরোনো হয়নি অনেকেরই। করোনার চোখরাঙানি কিঞ্চিৎ কমেছে। অফিস – কাছারি, কাজকর্ম সবই ছন্দে ফিরেছে আস্তে আস্তে । অল্পবিস্তর বাইরে বেরোচ্ছি সবাই, কিন্তু কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয়নি অনেকেরই। পরিবার নিয়ে দূরে কোথাও যেতে এখনও ভয় পাচ্ছেন অনেকেই।

বর্ধমানের কাঠ পুতুল

কিন্তু দূরে কেন, রোজনামচার একঘেঁয়েমি থেকে বেরোতে আমাদের বাংলাই কম কীসের। নিজের বাংলাকেই না হয় আরেকটু ভালভাবে চিনি জানি। আমাদের প্রাণের কবিই তো বলে গেছিলেন, “দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া”…..

বেশি দূর নয়, পূর্ব বর্ধমান জেলার অগ্রদীপ ষ্টেশন ( কাটোয়া – ব্যান্ডেল রেললাইনের সাহেবতলা ও পাটুলির মধ্যবর্তী ষ্টেশন) থেকে টোটো বা অটোতে মাত্র ১০ মিনিটের পথ গেলেই আসবে ‘নতুনগ্রাম’। দেখতে বাংলার আর পাঁচটা গ্রামের মত হলেও শিল্প স্বকীয়তায় নতুনগ্রাম স্বতন্ত্র। এখানেই পা দিলেই তা টের পাবেন। নিছক ঘোরা নয়, এখানকার বিশেষত্ব, ‘কাঠের পুতুল’। আর এই পুতুল নিজের হাতে তৈরি করেন গ্রামের মানুষই। এখানে আসলেই চারদিকে তাই শুধু ‘পুতুল নেবে গো, পুতুল’। গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া চওড়া ঢালাই রাস্তার দুপাশে সারি দিয়ে রয়েছে কাঠের পুতুলের পসরা। পরপর রয়েছে প্রায় ২০-১৫ টি পুতুলের দোকান। গ্রামে বসবাসকারী ৩৫-৪০টি পরিবারের প্রায় ১৫০-২০০ মানুষ (সূত্রধর ও ভাস্কর পদবি) প্রত্যেকে কাঠের পুতুল তৈরির সঙ্গে যুক্ত।

বছরভর এইসব শিল্পীরা বাংলা ও বাংলার বাইরে সরকারি কিংবা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাঠ পুতুলের মেলা করেন। আর বছরের দুইদিন নিজেদের উদ্যোগে নিজেদের গ্রামেই ‘কাঠ পুতুলের মেলার’ আয়োজন করেন। এই বছর ইতিমধ্যে ৯ ও ১০ জানুয়ারি এই মেলার আয়োজন করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ও সেভাবে প্রচার না করতে পারার জন্য জমজমাট করে মেলার আয়োজন সম্ভব হয়নি। মানুষের উপস্থতিও ছিল কমই। তাই আর কিছুদিন পর ফেব্রুয়ারির শুরুতে ফের এখানে রকমারি কাঠের পুতুলের সম্ভার নিয়ে মেলা বসবে। আর এই মেলা কার্যত যেন একটুকরো শৈশব।

Leave a Reply